মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

স্বর্ণের দাম আবার ৪ হাজার ডলারের নিচে

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে চলতি সপ্তাহে এ দরপতন হয়েছে। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ‘‌মনস্তাত্ত্বিক সীমা’ ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে গেছে। এর অর্থ হলো, বাজারে কোনো জিনিসের দাম কমে এমন একটি জায়গায় নেমে যায়, যা সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের বড় ধাক্কা বা চিন্তার সৃষ্টি করেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা সাধারণত রাউন্ড ফিগারকে একটি বড় সীমানা বা মাইলফলক মনে করেন। দাম এর নিচে নেমে গেলে ক্রেতা বা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরো দরপতনের এক ধরনের ভয় বা সতর্কতা কাজ করে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার দীর্ঘ সময় চড়া থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে এ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রয়টার্স ও আনাদোলু এজেন্সি।

বাজারের তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮৩ ডলারে নেমে আসে। শুক্রবার দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১ ডলার ২৯ সেন্টে লেনদেন হয়। তবে সামান্য এ উত্থান সত্ত্বেও ছয় সপ্তাহের মধ্যে এটিই ছিল স্বর্ণের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন। পুরো সপ্তাহে মূল্যবান এ ধাতুর দাম কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতই এ দরপতনের প্রধান কারণ। সম্প্রতি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে চলতি সপ্তাহেই জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

সাধারণত ভূরাজনৈতিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু এবার জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এটি মূল্যস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার আরো বাড়াতে কিংবা বর্তমান চড়া হার দীর্ঘ সময় বজায় রাখতে পারে।

সুদহার বাড়লে স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্বর্ণে নিয়মিত কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। তাই ব্যাংকে সুদহার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বদলে ডলার বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করেন। এ কারণে চলতি সপ্তাহে ডলারের বিনিময় হারও শক্তিশালী হয়েছে, যা অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরো ব্যয়বহুল করে তুলেছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও চলতি সপ্তাহে কমেছে। রুপার দাম গত শুক্রবারে কমে ৫৬ ডলার শূন্য ৬ সেন্টে দাঁড়ায়। এছাড়া প্লাটিনাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৯৫ ডলার ৬৪ সেন্টে নেমেছে।

আরও